সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৫ অপরাহ্ন
লামনিরহাট প্রতিনিধি॥
লালমনিরহাটের আদিতমারী খাদ্য গুদামের তথ্য ফাঁস করার অভিযোগ এনে ওই খাদ্য গুদামের এক শ্রমিককে বহিস্কার করা হয়েছে। বহিস্কৃত শ্রমিকের নাম সামছুল আলম (৩৬)। তিনি আদিতমারী উপজেলার ভাদাই ইউনিয়নের মাষ্টারপাড়া গ্রামের মৃত আজগার আলীর পুত্র। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে তিনি আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে মঙ্গলবার (২৪ এপ্রিল ) একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সুত্রে জানাগেছে, আদিতমারী উপজেলা খাদ্য গুদামের শ্রমিক সামছুল আলম দীর্ঘ ১৭/১৮ বছর যাবত কাজ করে আসছিল। এই কাজের উপার্জনের টাকা দিয়েই ৫ সদস্যের পরিবার নিয়ে দিনযাপন করে আসছেন। তার আয়েই চলত পুরো পরিবারটি। কিন্তু খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা আকস্মিকভাবে ২২ এপ্রিল থেকে কোন কারন ছাড়াই তার কাজ থেকে তাকে অব্যাহতি প্রদান করেন। কাজে যেতে না পেরে গত দু’দিন যাবত পরিবারটি অর্ধাহারে অনাহারে দিনযাপন করছে।
অভিযোগকারী শ্রমিক সামছুল আলম জানান, আদিতমারী খাদ্য গুদামে আমদানীকৃত চালের প্যাকেট পরিবর্তন করে ওই প্যাকেটে লোকাল (স্থানীয়) চাল ভরাট করে এসব চাল হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসাদুজ্জামান ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শামসুল আলম খাদ্য গুদাম পরিদর্শন করেন।
কর্মকর্তারা খাদ্য গুদাম পরিদর্শনে যাবার আগেই গোডাউন থেকে সকল শ্রমিককে বের করে দেয়া হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন। তাদের মতে, এসব বদলকৃত চাল উপজেলা ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের দুঃস্থ মহিলাদের জন্য দেয়া হয়েছে। এসব তথ্য বাহিরে পাচার করার অভিযোগ এনে শ্রমিক সামছুল আলমকে বহিস্কার করা হয়েছে বলে তিনি দাবী করেন। এদিকে কোন তথ্য প্রমাণ ছাড়াই দীর্ঘদিন গুদামে কাজ করা শ্রমিক সামছুল আলমকে বহিস্কার করায় শ্রমিকদের মাঝে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিক দাবী করে বলেন, খাদ্য গুদামের নৈশ প্রহরী চঞ্চল কুমার সিংহ দীর্ঘদিন যাবত এখানে কর্মরত থাকায় তিনি চাল পরিবর্তনের সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তার মাধ্যমেই গুদাম থেকে এসব চাল পরিবর্তন করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তারা। অথচ দোষারোপ করা হচ্ছে শ্রমিকদের। শ্রমিক সামছুলকে অনতিবিলম্বে কাজে নেয়া না হলে আন্দোলনের হুমকি দেন শ্রমিকরা।
এসব অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমার সাথে যোগাযোগের চেষ্ট করা হলেও তিনি সাংবাদিকদের সাথে এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি।
আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসাদুজ্জামান এধরনের অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,বিষয়টি তদন্তকরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে বলা হয়েছে।